সামরিক হামলা প্রতিরোধে কতটুকু সক্ষম বাংলাদেশ...?? (বিশেষ পোষ্ট)



Bangladesh Military Tanks

★★★ একজন বিখ্যাত জেনারেল George S. Patton এর একটি উক্তি দিয়ে আজকের লিখাটি শুরু করবো, তিনি বলেছিলেন- "শত্রুকে দুর্বল মনে করা বোকামি, কিন্তু তাদের বেশি শক্তিশালী ভাবাও অনুচিত"।

George S. Patton
আমাদের দেশে কিছু চুচিল আছে যারা প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে এতটা ক্ষমতাবান মনে করেন যে তারা দেশের জন্য যে কোন সামরিক উন্নয়নের মাঝে বলে বসেন 'কেনো এসব..!' 'এগুলো দিয়ে কি হবে..!' 'যুদ্ধ লাগলে আমরা পারবোনা..!' ইত্যাদি ইত্যাদি,, আর আরেক ধরনের মানুষ আছে যারা দেশের সামরিক বাহিনীর শক্তি সম্পর্কে এতটাই বেশি অন্ধবিশ্বাসী যে তাদের ধারণা যেই ই আক্রমণ করুক না কেন আমরা তাদের ধ্বংস করে দিবো। তারা একবারো এটা চিন্তা করেনা যে ফলাফল যাই হোক ক্ষতিটা কি পরিমাণ হবে। এবার নিশ্চই অনেকেই বুঝেছেন যে কেনো আমি স্যার এর উক্তিটা আগে উল্লেখ করেছি।

তো আজকাল বেশ লক্ষ করা যাচ্ছে যে ভার্চুয়াল দুনিয়া বা আরো পরিষ্কার করে বললে ফেসবুকের কিছু পেজ ও গ্রুপে ভারতের বাংলাদেশ দখল ও বাংলাদেশ এর ভারতের কিছু অংশ দখল নিয়ে একরকম যুদ্ধ ই চলছে বলা চলে। কেউ শক্তির জোরে কেউ বা ইতিহাসের আবার কেউবা কৌশলের অথবা না পাড়লে গায়ের জোড়েই যেন দখল করে ফেলবে grin emoticon এর সাথে আবার যোগ হয়েছে প্রতিবেশী দেশের কিছু দুর্বল মস্তিস্কের রাজনৈতিক নেতার ভবিষ্যৎ বানি বা একরকম হুমকি। তো বাংলায় একটা প্রবাদ আছে "পাগলে কিনা বলে আর ছাগলে কিনা খায়" grin emoticon তো যাইহোক আমি আজ লেখতে বসেছি বাংলাদেশ সামরিক দিক দিয়ে কতটা সক্ষম তার প্রতিবেশীর হামলা প্রতিরোধ করতে, যদিয়োবা একুরেট কোন পরিসংখ্যান দ্বার করানো আমার পক্ষে সম্ভব না তবুও চেষ্টা করে দেখি কতদূর এগুনো যায়।



bangladesh physical map
ভূ-অবস্থানগত দিক দিয়ে বাংলাদেশ এমন একটা স্থানে যার গুরুত্ব অপরিসীম, সেটা যেমন প্রতিবেশীর কাছে তেমনিভাবে আন্তর্জাতিক মহলেও। বাংলাদেশের ৩ দিকে ভারত ও একদিকে মায়ানমার এবং বঙ্গোপসাগর সেই হিসেবে বলা যায় দেশের ৮৫% সীমান্ত ভারতের সাথে ১০% মায়ানমারের সাথে এবং ৫% সমূদ্রে রয়েছে। আর সামরিক শক্তির দিক দিয়েও এই দুই দেশ আমাদের থেকে এগিয়ে। যদিয়োবা এই দুই দেশের সাথেই সীমান্ত যুদ্ধ বা সীমান্ত সংঘর্ষে আমাদের জয়লাভের ইতিহাস টা খুব একটা পুরনো না, তবুও বর্তমান পরিস্থিতি তেই সবকিছু বিচার করতে হবে। যেহেতু জাতীগত ভাবে আমরা আগ্রাসী না এবং ইতিহাস ঘাঁটলেও দেখা যায় যে আমরা কখনওই কাউকে আগে আক্রমণ করিনাই তাই যদি ধরে নেই কোন পরিস্থিতি তে প্রতিবেশী রাষ্ট্র আমাদের আক্রমণ করে তবে কি ঘটবে।

*যদি ভারত  বাংলাদেশ আক্রমন করে-


Bangladesh Vs India Defance

 যদিয়োবা আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি এর সম্ভাবনা ১% বা তারো কম কারন শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা অর্থাৎ বাংলাদেশের পাশে অবস্থান করা ভারতীয় রাজ্য গুলো ছাড়া আর কোন রাজ্যের কাউকে আমি "বাংলাদেশ তাদের শত্রু বা তাদের জন্য হুমকি" এটা ভাবতে দেখি বা শুনিনি, তারা তাদের শত্রু ও মাথাব্যথা হিসেবে পাকিস্তান ও চীন কেই দেখে। তো ধরেই নিলাম বাংলাদেশের সাথে কিছু একটা নিয়ে ভারতের সংঘর্ষ শুরু হয়ে গেলো। তো সেইখেত্রে ভারত কতটুকু সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পাড়বে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে..!


Indai vs China vs Pakistan

আপনি জানেন কি ভারতীয় সামরিক শক্তির মোটামুটি ৭০% বা তারো বেশি মোতায়েন করা আছে পাকিস্তান ও চীন কে কাউন্টার করতে ঐ সকল সীমান্তবর্তী এলাকা বা রাজ্যে। আর প্রতিনিয়ত ভারত ঐ দুই সীমান্তে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে, একই সাথে পাকিস্তান ও চীন ও একই কাজ করছে ফলে ভারতের ঐ অঞ্চল থেকে সামরিক শক্তি কমিয়ে এনে বিপদের পড়ার বিন্দু মাত্র ইচ্ছা নাই বললেই চলে। কেননা স্বাভাবিক পরিস্থিতি তেই যখন এই সীমান্ত গুলো উত্তেজিত থাকে তখন ভারত অন্য দেশের সাথে যুদ্ধে জরালে এবং সামরিক শক্তি ঐ এলাকা থেকে হ্রাস করলে পাক-চীন যে আক্রমণ করবেনা সেই গ্যারান্টি সয়ং চীন-পাকিস্থান ও দিবে না। আর নিশ্চই ভারত ১০-১৫% সামরিক শক্তি রিজার্ভ করে রেখেছে। আর বিদ্রোহী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন গুলোকে ঠ্যাকাতে প্রতিদিন ভারতের কি পরিমাণ ভোগান্তি যাচ্ছে সেতো আমাদের চাইতে ভারতীয়রাই বেশি ভালো জানার কথা,, অর্থাৎ কোন ইমার্জেন্সি ঘটলেও ভারত তার সামরিক শক্তির সর্বচ্চ ২০-২৫% এর বেশি বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যবহার করতে পারবেনা।

আর সামরিক হামলার গাণিতিক নীতি অনুযায়ী সর্বনিম্ন 1:3 (কিছু মতে 1:5/1:7 ও) নীতিতে হামলা করা যায়,, অর্থাৎ শত্রুর সংখ্যা যদি ১ হয় তবে আপনাকে মিনিমান ৩ জন দিয়ে হামলা করতে হবে যদি জিততে চায় হামলাকারি। অর্থাৎ বাংলাদেশ কে পরাজিত করতে চাইলে ভারত কে নিম্নে ১৫ লক্ষ সৈন্যদল দিয়ে আক্রমণ করাতে হবে। অপরদিকে বাংলাদেশ তার সামরিক শক্তির সর্বচ্চ ৮০-৮৫% অব্দি ভারতের বিপক্ষে ব্যবহারে সম্পূর্ণ সক্ষম কারন তখন শত্রু বলতে কেবল ই ভারত। আর যদি কোনভাবে মায়ানমার বাড়াবাড়ি করে বা কিছু করতে চায় তবে তাদের সীমান্তেই ঠ্যাকানোর জন্য বাংলাদেশের ১০% সামরিক শক্তি যথেষ্ট। আর সবচাইতে বড় কথা হলো ভারত বাংলাদেশ কে আক্রমণ করলে শুধুমাত্র নিয়মিত বাহিনীর ব্যবহার করতে পারবে রিজার্ভ নয় কারন রিজার্ভ বাহিনী আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য আক্রমণ করার জন্য প্রশিক্ষিত না। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ তার নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি সম্পূর্ণরূপে রিজার্ভ ফোর্স তো ব্যবহার করতে সক্ষম পাশাপাশি দেশের কোটি কোটি মানুষের সাহায্য তো আছেই।

বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স
যুদ্ধের কলাকৌশল ও গেরিলাযুদ্ধে বাংলদেশ কতটা দক্ষ তা পৃথিবীর অনেক দেশ ই জানে তাই এতটুকু ভরসা করতে পাড়ি যে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ। তবে হ্যা যুদ্ধ যেহেতু বাংলাদেশ সীমান্তে বা দেশের মাটিতে হবে এবং আমাদের এয়ার ডিফেন্স দুর্বল হবার কারনে ক্ষয়ক্ষতি আমাদের ই বেশি হবে [যদিয়োবা ২০২২ এর ভেতর এই সমস্যার ৫০-৬০% ই সমাধান হয়ে যাবে]। আর হ্যা কেউ বোকার মত পারমাণবিক অস্ত্রের কথা তুলেন না কারন এটা একবিংশ শতাব্দী, এই যুগে পারমানবিক অস্ত্র ভয় দেখানোর বস্তু ছাড়া কিছুই না, যদি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার এতটাই সহজ হতো তবে অনেক আগেই উঃকোরিয়া, দঃকোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইরান, সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইউক্রেইন বা আর্জেন্টিনার মাথায় পারমাণবিক বোমা পরে যেতো।

*যদি মায়ানমার বাংলাদেশ আক্রমন করে-

Maianmar Vs Bangladesh
 একটা বাদর কে করে যেমন কনো ভরষা করা যায় না তেমনি মায়ানমার কে করেও কিছুই ভরষা বা আশা করা যায় না। এই রাষ্ট্র টির কলকাঠি দীর্ঘ দিন সামরিক নেতাদের হাতে থাকায় এরা একটু সংঘাত প্রবণ জাতীতে রূপলাভ করেছে। বহুবার তারা বাংলাদেশ এর সাথে ঝামেলা করেছে এবং প্রতিবার ই নিজের ক্ষতিসাধন এর মাধ্যমে হয় পিছু হটেছে নয়তো সমঝোতায় এসেছে। সংখ্যা ও মিলিটারি ইকুইপমেন্ট এর দিক থেকে মায়ানমার সামরিক বাহিনীও এগিয়ে আমাদের চেয়ে, এর প্রধান কারণ সামরিক শাসনের মদ্ধ্যদিয়ে দেশটির অগ্রযাত্রা। তবে উন্নত প্রশিক্ষণ ও অত্যাধুনিক মিলিটারি স্কিল থেকে তারা বাংলাদেশ চাইতে পিছিয়ে আছে অনেকটাই, এর প্রধান কারন দেশটির উপর দীর্ঘ দিনের সামরিক, বেসামরিক ও বাণিজ্যিক অবরোধ। যেখানে বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকেই পৃথিবীর বহু দেশের সাথে নিয়মিত প্রতিবছর যৌথ-সামরিক মহড়া ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত থাকায় প্রচুর সামরিক কৌশলগত জ্ঞানলাভ করেছে সেখানে মায়ানমার বেশ অনেকটাই পিছিয়ে অবরোধের ফলে।

ভূ-অবস্থান গত দিক দিয়ে বাংলাদেশ-বার্মা সীমান্ত অত্যন্ত দুর্গম ফলে মায়ানমার বাংলাদেশে স্থল হামলা করে অগ্রসর হতে প্রাকৃতিক ভাবেই অনেক বাধা পাবে এমনকি এমন কিছু সীমান্ত আছে যেখান দিয়ে চট্টগ্রাম পোঁছাইতেই ১০ দিনের বেশি লাগে,, তবে মায়ানমার অক্রমন করলে আর্টিলারি, মিসাইল, এয়ার-স্ট্রাইক ও নেভাল স্ট্রাইক করার সম্ভাবনাই সবচাইতে বেশি। নেভাল স্ট্রাইক বা মায়ানমার নৌবাহিনী কে ঠ্যাকানোর মত যথেষ্ট সক্ষমতা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আছে তবে এয়ার-স্ট্রাইক থেকে রক্ষা পাওয়াটা একটু কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং হবে। যদিয়োবা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বাংলাদেশ ক্রয় করছে তবুও তা যথেষ্ট না। এবং মায়ানমার এর তুলনায় আমাদের এয়ার স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি কিছুটা কম ই বলা চলে। তবে ভারতের মত মায়ানমার এর ও একটা বড় সমস্যা অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহী স্বাধীনতাকামি ও বিচ্ছিনতাবাদিরা, যাদের প্রতিরোধ করতে মায়ানমার সামরিক বাহিনী এখনো হিমশিম খাচ্ছে,, এবং থাইল্যান্ড এর সাথেও বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক না থাকায় তারা ঐ সীমান্ত থেকে সামরিক শক্তি কমাতে পাড়বেনা,, তাই সবদিক বিবেচনাধীন করলে দেখা যাবে মায়ানমার ও বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বচ্চ ৪০-৫০% এর বেশি সামরিক শক্তি ব্যবহারে সক্ষম নয়, আর তাদের অর্থনীতি বেশ দুর্বল তাই এই পরিমাণ শক্তিও ব্যবহারে সক্ষম কিনা তাও ভাবার বিষয়।

ইতিমধ্যেই বার্মা সীমান্ত এলাকা গুলোতে সামরিক স্থাপনা উন্নয়ন, নুতুন সেনানিবাস, বিমানঘাঁটি, নৌ-ঘাটি, সাবমেরিন বেস ইত্যাদি সামরিক স্থাপনার কারনে মায়ানমার এর যেকোনো সামরিক আক্রমণ প্রতিরোধ করতে বাংলাদেশ এর সর্বচ্চ ৩০-৪০% সামরিক শক্তি যথেষ্ট। আর এই সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, বাস্তবিক অভিজ্ঞতা যুদ্ধক্ষেত্রে মিলিটারি স্ট্রেটিজি এবং ওয়্যার স্ট্রেটিজি বাংলাদেশ কে অনেক ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে জয়লাভে সহায়তা করবে।


পরিশেষে সকলের উদ্দেশে একটা কথা বলি, " দ্যা গ্রেট বলদ, পাগল, ছাগল আর বান্দর দের কথায় কান না দিয়ে বা তাদের গাধামি তে সাড়া না দিয়ে আমাদের সকলের সামরিক জ্ঞান চর্চা করাই উত্তম বলে আমি মনে করি"। বাংলাদেশ দখল করে নিবো, বাংলাদেশীদের ধ্বংস করে দিবো, এটা করবো ওটা করবো এগুলা কেবল বলদ বা পাগলের মুখেই মানায়, সুস্থমস্তিষ্কের কোন মানুষের পক্ষে এগুলো বলা বা ভাবা সম্ভব না।

 ‪-ধন্যবাদ‬ এত কষ্ট করে এতবড় পোষ্ট পড়ার জন্য,, আপনাদের মতামত জানাবেন তবে প্লিজ কেউ গালিগালাজ বা খারাপ ভাষা ব্যবহার করবেন না।

আমাদের ফেইসবুক ফ্যানপেইজকে লাইক দিন-  এখানে
Powered by Blogger.